
গাজীপুরের কালীগঞ্জে বিয়ের আশ্বাস এবং ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে এক কলেজছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা জাহিদ মুন্সিকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়।
জাহিদ মুন্সি কালীগঞ্জ উপজেলা এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মামলা হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ঘড়ি কিনতে গিয়ে পরিচয়
মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রায় চার মাস আগে জাহিদ মুন্সির দোকানে ঘড়ি কিনতে গিয়ে সরকারি কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজের ওই ছাত্রীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ওই ছাত্রীকে একটি গেস্ট হাউসে নিয়ে যৌন নির্যাতন করেন জাহিদ। সেখানে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও এজাহারে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে সেসব ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন হোটেল, রিসোর্ট এবং রেলওয়ের একটি পরিত্যক্ত কোয়ার্টারসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এগুলো মামলার বাদীপক্ষের অভিযোগ। আদালতে বিচার ও সাক্ষ্যপ্রমাণের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে।
বিয়ের কথা বললে মারধরের অভিযোগ
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ওই ছাত্রী জাহিদকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে বড় বোনকে সঙ্গে নিয়ে জাহিদের বাড়িতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, জাহিদ এর আগে একাধিক বিয়ে করেছেন এবং তাঁর একটি সন্তান রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর ছাত্রীর বড় বোন বাদী হয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর কালীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলা হওয়ার পর জাহিদ আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার
কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হোসেনের বরাতে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে জাহিদ মুন্সিকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার দুপুরে তাঁকে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তবে গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট স্থান নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কিছু অসঙ্গতি রয়েছে। কয়েকটি সংবাদমাধ্যম পুবাইলের মাঝুখান এলাকার কথা বলেছে, অন্য একটি প্রতিবেদনে নাগরী ইউনিয়নের পিপুলিয়া এলাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এনসিপির গাজীপুর জেলা শাখার পক্ষ থেকে মামলা হওয়ার পর জাহিদ মুন্সির বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। তবে মামলায় আনা ধর্ষণ, হুমকি ও নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।